বাংলাদেশি দম্পতির অশ্লীল কনটেন্ট কাণ্ড: গ্লোবাল স্টার থেকে গ্রেপ্তার!

 

 বাংলাদেশের সংবাদ জগতে এখন ঝড় তুলেছে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বান্দরবানের এক দম্পতি, মোহাম্মদ আজিম (২৮) এবং তার স্ত্রী বৃষ্টি (২৮), আন্তর্জাতিক অ্যাডাল্ট ওয়েবসাইটে অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের কনটেন্ট বিশ্বব্যাপী ২৬৭ মিলিয়নেরও বেশি ভিউ পেয়েছে, এবং তারা গ্লোবাল 'টপ ১০ পারফর্মার' র‍্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। এই ঘটনা কেন এত আলোচনায়? কীভাবে তারা যুবকদের এই অন্ধকার জগতে টেনে নিচ্ছিল? চলুন, Oneway360-এর এই পোস্টে বিস্তারিত জানি। 


ঘটনার পটভূমি : 

২০ অক্টোবর, ২০২৫-এর ভোরে, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা যায়, তারা ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ১১২টিরও বেশি অশ্লীল ভিডিও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেছে। তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল 'nadiyaxxx02' এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রচারের মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে পৌঁছায়। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টি বিশ্বের শীর্ষ ৮ নম্বর পারফর্মার হিসেবে র‍্যাঙ্ক করেন।  অন্যান্য বাংলাদেশি ক্রিয়েটরদের মতো তারা পরিচয় গোপন করেনি, বরং নিজেদের মুখ দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করেছে। ফোন, ক্যামেরা, ট্রাইপড, এবং সিম কার্ড ব্যবহার করে তারা এই 'বিজনেস' চালাতো, যা সিআইডি অভিযানে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।  


কীভাবে এলো আলোয়?

এই ঘটনা প্রথম উন্মোচিত হয় 'দ্য ডিসেন্ট' নামক একটি অনলাইন পোর্টালের তদন্তমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে। তাদের রিপোর্ট, "Bangladeshi Couple Becomes Global Porn Stars, Draws Youth into Industry," এই দম্পতির কার্যকলাপ এবং যুবকদের নিয়োগের চেষ্টা তুলে ধরে। তারা টেলিগ্রাম, ফেসবুক, এবং ইনস্টাগ্রামে নগদ অর্থের লোভ দেখিয়ে নতুন ক্রিয়েটরদের আকৃষ্ট করছিল। অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে এই বিষয়ে ৫০টিরও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ভাইরাল হয়।  


আইনি ও সামাজিক প্রভাব

বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি কন্ট্রোল অ্যাক্ট ২০১২ অনুযায়ী, এই ধরনের কাজে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। হাইকোর্টের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যা দেশের সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি অংশ।  সামাজিকভাবে, এই ঘটনা বাংলাদেশের রক্ষণশীল সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এটাকে 'সাংস্কৃতিক বিপর্যয়' বলছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার এবং যুবকদের এই ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল লিটারেসি এবং সাইবার সিকিউরিটি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।  


Oneway360-এর দৃষ্টিকোণ 

এই ঘটনা আমাদের দেখায় যে, ইন্টারনেটের সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। আমরা যুবকদের কীভাবে সঠিক পথে রাখব? সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এবং পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কি সমাধান হতে পারে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। আরও এমন সংবাদ ও বিশ্লেষণের জন্য Oneway360.blogspot.com -এ নিয়মিত চোখ রাখুন!  

শেয়ার করুন, সচেতনতা ছড়িয়ে দিন!
‎সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, আনবিবি নিউজ, দ্য ডিসেন্ট
‎ডিসক্লেইমার: এই পোস্ট শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে এবং কোনো অশ্লীল কনটেন্ট প্রমোট করে না।