বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক সময়ের সুপারস্টার সালমান শাহের মৃত্যুর রহস্য আজও দর্শকদের মনে একটা অমীমাংসিত অধ্যায়। ১৯৯৬ সালে তার অকালপ্রাপ্ত মৃত্যুকে প্রথমে আত্মহত্যা বলা হলেও, তার পরিবার সবসময় দাবি করে এসেছে যে এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যা। এবং এখন, প্রায় ২৯ বছর পর, এই মামলায় একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট এসেছে। আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে, এবং সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। Oneway360-এর এই পোস্টে আসুন জেনে নিই এই ঘটনার পুরো কাহিনি এবং সাম্প্রতিক আপডেট।
সালমান শাহের জীবন এবং মৃত্যুর পটভূমি
চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (স্টেজ নাম: সালমান শাহ) ১৯৯০-এর দশকের ঢাকা চলচ্চিত্রের হার্টথ্রব ছিলেন। 'আমার প্রিয়তমা', 'পাগলা বাঈরাগী', 'অন্তরজ্বালা' এবং 'জয় বাংলা'র মতো সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। মাত্র ২৫ বছর বয়সে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের তার ফ্ল্যাটে সালমানের মৃত্যু হয়। প্রথমে এটিকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়, এবং তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকও এই দাবি করেন।
কিন্তু সালমানের বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী কখনোই এতে বিশ্বাস করেননি। তারা অভিযোগ করেন যে, সালমানকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। এই দাবির ভিত্তিতে ১৯৯৬ সালে রমনা মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের চেষ্টা করা হলেও তা আমল হয়নি। বিভিন্ন তদন্তে (পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই) মৃত্যুকে 'অপমৃত্যু' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং ২০২১ সালে মামলা নিষ্পত্তি হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ: আদালতের নির্দেশ এবং নতুন মামলা
সালমানের মৃত্যুর ২৯ বছর পর, ২০ অক্টোবর ২০২৫-এ ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত (জজ: জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক) নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মেনে নিয়ে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের নির্দেশ দেন। এতে পুরনো অপমৃত্যু মামলাটি পুনরায় তদন্তের আওতায় আসে।
এরপর, ২১ অক্টোবর মধ্যরাতে নীলা চৌধুরীর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রথম আসামি হিসেবে সামিরা হকের নাম, এবং মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিরা: ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডন, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ আরও কয়েকজন। এছাড়া অজ্ঞাতকুল ২-৩ জনকেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সালমানকে ঘটনার দিন বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়, এবং এতে সামিরা ও তার সহযোগীদের জড়িত দেখা যায়। ফরহাদের পুরনো জবানবন্দিতে এই হত্যার বিবরণ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান এজাহার গ্রহণ করে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। রমনা মডেল থানা পুলিশ এখন তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া: ভাইরাল হয়ে উঠেছে খবর
এই খবর X (পূর্বের টুইটার)-এ ঝড় তুলেছে। অনেকে সালমানের ভক্ত হিসেবে বিচারের দাবি তুলছেন, যেমন: "সালমান শাহ হত্যা মামলায় স্ত্রী সামিরাসহ আসামি ১১ জন" পোস্টে শেয়ার হয়েছে। অন্যরা বলছেন, "এত বছর পর সত্যিটা বেরিয়ে আসুক"। কেউ কেউ পুরনো গসিপ উড়িয়ে দিয়ে বলছেন, "শাবনুরের কারণে হত্যা?"—যা পুরনো কথোপকথন থেকে উঠে এসেছে। সামগ্রিকভাবে, এটি ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে, এবং ভক্তরা আদালতপাড়ায় মানববন্ধনও করেছেন।
কী হবে এরপর? সালমানের পরিবারের আশা
এই মামলা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। তদন্তে নতুন প্রমাণ উঠে আসলে এটি বড় রহস্যের সমাধান হতে পারে। সালমানের পরিবারের আইনজীবী মো. ওবায়দুল্লাহ বলেছেন, "শতভাগ আশাবাদী—আদালত বিচারের পথ খুলে দিয়েছে।" তবে সামিরা হকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া আসেনি।
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, চলচ্চিত্র জগতের গ্ল্যামারের পেছনে অনেক অন্ধকার রহস্য লুকিয়ে থাকে। আপনার মতামত কী? এটি সত্যিই হত্যা ছিল কি না? কমেন্টে জানান। আরও এমন সংবাদ ও বিশ্লেষণের জন্য Oneway360.blogspot.com-এ নিয়মিত চোখ রাখুন!
**শেয়ার করুন, সচেতনতা ছড়িয়ে দিন!**
*সূত্র: দেশরূপান্তর, খবরের সংঘাত, বাংলা ট্রিবিউন, ইত্তেফাক, সময় এলো, X পোস্টসমূহ।*
*ডিসক্লেইমার: এই পোস্ট শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে; কোনো অভিযোগের চূড়ান্ততা নির্ভর করে তদন্তের ওপর।*
